Tuesday, October 16, 2018

Saptami Today। আজ সপ্তমী। নবপত্রিকা স্নানের পর চক্ষুদান, দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা। রোদ ঝলমল শরত্‍-সকালে উমা এলেন বাপের বাড়ি

Add caption
সপ্তমীতে সপরিবারে মা দুর্গার পিতৃগৃহে প্রবেশ। স্বপ্ন-আবেগ-আনন্দের দ্যুতিতে উজ্জ্বল কলকাতা আজ সপ্তমী৷ ভোরে গঙ্গার ঘাটে নবপত্রিকা স্নানের পর চক্ষুদান, দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা। মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে দিয়ে শুরু সপ্তমীর পুজো। বেলা বাড়তেই মণ্ডপে মণ্ডপে দর্শনার্থীর ঢল।

সকালে রোদ ঝলমলে শরতের আকাশ৷
রাতে আলো ঝলমলে শরতের কলকাতা।
উমা এলেন বাপের বাড়ি৷ সপরিবারের মা দুর্গার পিতৃগৃহে প্রবেশ৷ সঙ্গে কার্তিক, গণেশ, সরস্বতী-লক্ষ্মী ও তাঁদের বাহনেরা৷

মঙ্গলবার সপ্তমী। আনুষ্ঠানিকভাবে এদিনই শুরু হল পুজো। সোমবার রাতেই হয়ে গেছে দেবীর আমন্ত্রণ এবং অধিবাস। সপ্তমীর সকাল থেকে গঙ্গার ঘাটে ঘাটে শুরু হয় নবপত্রিকা স্নান। সর্বজনীন পুজোর উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি ভিড় ছিল বিভিন্ন বনেদি বাড়ির। গঙ্গা স্নানের পর কোথাও চতুর্দোলায় করে, কোথাও বা ছাতা মাথায় দিয়ে নবপত্রিকা নিয়ে যাওয়া হয় মণ্ডপে।


নবপত্রিকা শব্দটির আক্ষরিক অর্থ ন’টি গাছের পাতা। তবে বাস্তবে নবপত্রিকা ন’টি পাতা নয়, ন’টি উদ্ভিদ। কৃষিপ্রধান বাংলার প্রতীক।
রম্ভা কচ্চী হরিদ্রাচ জয়ন্তী বিল্ব দাড়িমৌ।
অশোক মানকশ্চৈব ধান্যঞ্চ নবপত্রিকা।
অর্থাৎ কলা, কচু, হলুদ, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক, মান ও ধান।

একটি পাতা সহ কলা গাছের সঙ্গে অপর আটটি মূল ও পাতা সহ উদ্ভিদ এবং এক সাদা অপরাজিতা লতা দিয়ে বেঁধে লালপাড় সাদা শাড়ি জড়িয়ে ঘোমটা দেওয়া বধূর আকার দেওয়া হয়। স্ত্রীরূপের জন্য দু’টি বেল দিয়ে করা হয় স্তনযুগল।  প্রচলিত ভাষায় নবপত্রিকার নাম কলাবউ। নবপত্রিকার পরই দেবীর মহাস্নান। তারপর ঘটে দেবীর প্রাণপ্রতিষ্ঠা করে মহাপুজো।  লাবাউকে সিঁদুর দিয়ে সপরিবার দেবীপ্রতিমার ডান দিকে দাঁড় করিয়ে পূজা করা হয়। সপ্তমীতে এভাবেই  প্রকৃতি আরাধনার মধ্য দিয়েই শুরু বয় মাতৃশক্তির আরাধনা।  ন’টি গাছ দেবীর এক একটি রূপের প্রতীক। যেমন, কলাগাছ ব্রহ্মাণী, কচু- কালিকা, হলুদ- দুর্গা, জয়ন্তী- কার্তিকী, বেল- শিব, ডালিম-রক্তদন্তিকা, অশোক-শোকরহিতা, মান-চামুণ্ডা, ধান-মহালক্ষ্মী।


তবে আনুষ্ঠানিক পুজো শুরুর অনেক আগেই শুরু হয়ে গেছে ঠাকুর দেখা। ষষ্ঠীর রাতে মণ্ডপে মণ্ডপে ছিল মানুষের ঢল। ব্যতিক্রম হয়নি সপ্তমীতেও। সপ্তমীর শহরে যেন অসংখ্য তারার আলোকদ্যুতি। স্বপ্ন-আবেগ-আনন্দের দ্যুতিতে উজ্জ্বল কলকাতা। নতুন জামা, নতুন জুতো, পায়ে ফোস্কা। তাতে কী! আড্ডা-ফুচকা-রোল আর আনন্দের হল্লাবোলে বছরভরের চেনা কলকাতা আজ বড়ই অচেনা। হাতে যে আর মাত্র ২টো দিন।


© All rights of this article and this BLOG reserved for RAJATkanti BERA. Unauthorized use or reproduction of any cause is strictly prohibited.

No comments:

Post a Comment

Popular Posts

বাংলার ঘরে ঘরে আজ শিবরাত্রি পুরাণ মতে, শিবকে পতি রূপে পাওয়ার জন্য রাত জেগে উপবাস করে শিবের আরাধনা করেছিলেন দেবী পার্বতী৷ তারপর থেকেই ...